Posts

Showing posts from September, 2025

বন্ধু -অনন্য রাসেল

Image
 বন্ধুত্ব একটা মাধুর্য  এক প্রকার শক্তি।  না বলার কথা জমা রাখার বিশস্ত ব্যাংক। নির্ভেজাল আড্ডার সরাইখানা। সুখ দু:খের মিলন মোহনা। পাল তোলা নৌকায় ভেসে বেড়ানো উদ্দাম বাতাস। নেই অভিমান, নেই চাওয়া  নেই পাওয়া না পাওয়া দোলা। তবুও বন্ধু দু:খের সাগরে ভেসে ওঠা ভেলা। বন্ধু -অনন্য রাসেল

কবি না -অনন্য রাসেল

Image
 ভদ্রলোক আর যাই হোক কবি না -অনন্য রাসেল  কোর্ট প্যান্ট পরা ভদ্রলোক যখন কবিতা লেখেন তখন সেটা হয়ে যায় প্লাটিনামের মতো দামী পণ্য।  তাতে গরীব মানুষের প্রতিচ্ছবি থাকিলেও তাতে গরীবের মন খুঁজে পাওয়া যায় না। কবি গরীবের চেয়ে অধ।গরীব সীমার নিচে বসবাস।  তাই কবিতার আসরে কবির জায়গা হয় ভিখারির মতো। একটু ভালো খাবারের,সুনামের ক্ষুধা মেটাতে  কবিরা মৌমাছির মতো জড়ো হয়। ভদ্রলোকেরা আসরের মধ্য মনি হয়ে গলাবাজি করে। আর কবি তারে চেয়ার বয়ে দেয়।  আসন ছেড়ে চলে যায় গরীবদের কাছে। ভদ্রলোক দুই একবার নাম উচ্চারণ করলে জান্নাত নেমে আসে তার বুকে ঠিক গরীবের মতো ধনীরা তাদের  আত্মীয়তার পরিচয় দিলে যেমন জান্নাত হাতে পায়।  আসলে গরীবেরাই কবি। তাদের জীবন আস্ত কবিতা।  যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। আদি অনাদি অন্তহীন কবিতা। কবি ভদ্রলোক হলে সে আর কবি থাকে না। হয়ে কাব্য মহাজন।  সাহিত্য সংগঠন হয় তার ব্যাংক।  অনায়াসে বনে যায় মালিক অধিপতি।  তারে আর বলা যায় না। এবার কবিতা ছাড়। কবিতা তোমার হয় না। তুমি প্লাটিনাম প্রসব করছ যার দরে তুমি বাংলা একাডেমি কিংবা শিল্পকলার প্রভু হবে। হুইসেল ...

ইতিহাস বার বার ফিরে আসে

Image
 ইতিহাস বার বার ফিরে আসে -অনন্য রাসেল। ইসলামি শাসন ব্যবস্থা চাও ভালো কথা।  জমিতে কিন্তু মালকাঁছা দিয়ে নামতে পারবে না। সেটা মনে রেখ। গ্রামে গ্রামে যে সুদের কারবার করছ। সেটা কিন্তু বন্ধ করতে হবে।  পাশের বাড়ির ভাবির সাথে যে গাল গপ্প কর সেটা আর চলবে না। সিনজি থেকে যে চাঁদা তুলে খাও সেটা বাদ দিতে হবে। বিচার করতে গেলে দুই পক্ষ থেকে যে দাদন নেও, সেটাও চলে যাবে। ঘরে ধান চাল বেশি থাকলে, সোনা দানা থাকলে যাকাত দিতে হবে। মাঝে মাঝে যে গানের আসর বসাও সেটা বাদ দিতে হবে। মাজারে গিয়ে মানত কর, পুজার মেলায় ঘোরাঘুরি কর সেটা আর করতে পারবে না। বোনের জমির ভাগ বুঝে দিতে হবে। এতদিন ধরে যে জোর করে দখল করে আছ। তার আর্থিক হিসাব দিতে হবে। ঘুষ খেয়ে যে বড়লোক হয়েছো, সেটা ফেরত দিতে হবে ।  হকদারির হক আদায় করতে হবে। অল্প বয়সে ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। তারা সংসার চালাতে না পারলে তোমার চালাতে হবে। না পার  তবে ছেলে বউ ভাগিয়ে নেবে অন্য কেউ। হুজুরদের মতো পোশাক আশাক পড়তে হবে। শার্ট-প্যান্ট, টিশার্ট চলবে না। জিনস ফতুয়া পুড়ে ফেলতে হবে সুন্নতি লেবাসে ধরতে হবে। অতিগরমেও ছতর বের করা যাবে না। গাছতলায় বসে ভা...

জীবন্ত কবিতার বই

Image
 জীবন্ত কবিতার বই -অনন্য রাসেল। কবি নয়  জীবন্ত কবিতার বই। কাব্য পড়ি না  কাব্য শুনি  দুজনে বসে লেকের ধারে। একটু বিদ্রোহী হলে  আমার রাবীন্দ্রিক আবেগ দেই ঢেলে।  জীবনানন্দ হয়ে বার বার ফিরে আসে। কবি নয়  জীবন্ত কবিতার বই আমার। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় কেবল রোমান্স ছড়ায়। আমি পূররী হয়ে সে রোমান্স ভোগ করি। মাঝে মাঝে একটু আনমনা হয় আমি মৈত্রী হয়ে আবার তারে পথে ফেরায়। কবি নয়  জীবন্ত কবিতার বই সে  আমার বুক সেলফে তারে স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখি। আমার আঁচল বিছিয়ে দিয়ে মোলায়েম মলাটে ঢাকি। আমার রঙবেরঙ এর শাড়ি যেন সে বইয়ের মলাট।  মলাটে মুগ্ধ হয়ে ভিতরের কবিতায় প্রবেশ করি। প্রথম দিকের কবিতায়  প্রচন্ড বিদ্রোহ। মাঝ পথে কবিতা যেন রোমান্টিক  এরপর কবিতা কেবল দার্শনিক।  আমি তার দার্শনিকতায় মুগ্ধ হলেও বিদ্রোহের প্রেমে পড়ি। রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে আমার সেলফে রাখি। কবি নয়  জীবন্ত কবিতার বই।  আমার এক বান্ধবীর সেলফেও তারে দেখি।  নারী আবেগে কষ্ট পাই পরে ভাবি  কবিতার বই সবার আবেগ ঢেকে রাখে।  পৃথিবীর পাঠশালায় ছড়িয়ে পড়লে  ভাবি জীবন্ত কবিত...

ডাকসু নির্বাচন ও চ্যাট জিপিটি-অনন্য রাসেল

Image
 চ্যাট জিপিটি ও ডাকসু নির্বাচন (রম্য গল্প) আমার ছেলেটা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইলো  আমি খুব আবাক হলাম। কিছুতেই নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারলাম না। দেশে কী মেধাবীর আকাল পড়ছে? হারিছের মতো আড্ডাবাজ,মাথামোটা চান্স পায় কিভাবে? পত্রিকায় ঘাটলাম পরীক্ষায় কোন অনিয়ম হয়েছি কিনা- এমন সংবাদ আছে কি না। পেপার ঘাটলাম এই জন্য যে ওর মা হয়ত আমার অজান্তে অন্য পথে হেঁটতে পারে। না নেই। তাহলে ও নিয়মেই চান্স পাইছে। ও যখন এ প্লাস পেলো তখন অবাক হইনি।  ওর মা খুব খুশি হয়েছিলো  ওর মা খুব টেনশনে ছিলো। ছেলে যদি প্লাস না পায়। মহিলা মানুষের টেনশন। বুঝেন তো তারা তেলাপোকার জন্য টেনশন করে কিন্তু ইদুরের জন্য করে না। ভূতপূর্ব শিক্ষক হিসেবে আমি জানি নিতান্ত গুরু ছাগল না হলে, সবাই এ প্লাস পায়। সুতরাং আমার ছেলে যে গরু না, এটা মানতেই হবে। তবে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপযুক্ত না, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর ঘাস জন্মায়।  বড়জোর সরকারি কলেজে পড়ার যোগ্য। সরকারি কলেজে ওর মতো অনেক ষাঁড় আছে। তবে আট দশজন বাবার মতো কোচিং করিয়েছি। পাঁচটা মোটা অঙ্কের শিক্ষক রেখে প্রাইভেট পড়িয়েছি। সাধারণত দুর্নীতির টাকা শিক্ষার পেছনে ব্...

যমুনা ( গল্প) - অনন্য রাসেল

Image
অনন্য রাসেলের গল্প  যমুনা বহুদিন পর যমুনা  ঘুরতে এসেছে।  কাজীপুর তার বাপের বাড়ি হলেও অনেকদিন আসা হয় না।গ্রামটা প্রায় অচেনা।আগের সেই গ্রাম আর নেই। ছন আর টিন ফেলে, হট পাথরে ছেয়ে গেছে।মানুষগুলো আর আগের মতো নেই,ইট পাথরের মতো কংক্রিট হয়ে গেছে। ছোটবেলায় ভোরে রওনা দিয়ে দুপুর গড়িয়ে গেলে তারপর  যাওয়া যেতো যমুনার তীরে।  যমুনা তখন আত্মীয় হয়নি, কেবল জানা শোনা ছিলো।  বিয়ের পর যমুনা তাদের আত্মীয় হয়,আর এখন প্রতিবেশী। এক সময় যমুনায় হবে হয়ত তাদের মালিক। হয়ত তার নাতিদের দেখিয়ে বলবে এই যে যমুনার জল দেখছ। এটাই ছিলো আমাদের বাড়ি। সেই আশি সালের কথা তার বাবা তার দাদা সাথে যমুনার চরে বাদাম তুলতে যেতো। নম্বয়ের দশকে সেও যেতো তার বাবার সাথে বাদাম তুলতে।  সে বাঙ্গি তুলে খেতো।যেন মনে হতো চরের বালু সে খাচ্ছে।প্রতিদিনই শুনতো কারো না কারো জমি যমুনায় গ্রাস করে খাচ্ছে। মনে আছে সে সময়ের কথা যখন সে স্কুলে পড়ে। ভোরে শোনা গেল তার চাচা রহিচ মন্ডল ও তার পরিবার নিখোজ। ঘুমন্ত অবস্থায় নদী গ্রাস করে ফেলছে তাদের।  এক রাতেই সেবার নদী অর্ধেক গ্রাম গিলিয়ে খায়।চাচাতো ভাই ঢাকা পড়ত আর বোনের বিয়ে হয়...

কবিতা: নারীর কিবিতা

Image
 তুমি সুন্দরী পয়বতী নারী  কবিতা  পোস্ট করছো। আর আমি বাৎস্যায়নিক পুরুষ  কবিতার প্রশংসা না করে কী পারি। তুমি সৃজনশীল নারী  তোমার দেহ ঢাকা আছে কবিতা দিয়ে  তোমার মন লুকিয়ে আছে গল্পে।  কেবল উপন্যাসখানা রচিত হবে আমার হাতে। তোমার গল্প পাঠ করতে করতে  কবিতার রাস্তার ধরে দেহের জানালায় উকি দেই। তারপর  কোন রেস্টুরেন্টে বসে লিখি কবিতার কথা। কোন রিসোর্টে রচিত হয় মহাকাব্যিক উপন্যাস  তোমার রসের মহাকাব্য আবৃত্তি করে  থিতু হয়ে লিখি যা সত্য তাই কবিতা।  তোমার গিলগামেশ পড়তে পড়তে কত কি যে খুঁজে পাই। কেবল সত্যটা খুঁজে পাই না। সত্যটা আড়াল করে লিখেফেলি ওডেসি।  ঈস্কিলাসের মতো উচ্চারণ করি ট্র‍্যাজিক শব্দ অসাধারন ' কিংবা এরিস্টোফেনিসের আঙ্গিকে বলি দারুন।

কবিতা

 নগরের বৃষ্টি  -অনন্য রাসেল এই বুর্জোয়া দিনে  তুমিই কেবল দিতে পার  ঢের অবসর।  বেধে রাখতে পার কদমদুখানি  অলিতে গলিতে দিতে পার চুবানি।।।  সাগরকে ডেকে আনতে পার সাত রাস্তার মোড়ে  মিনকে ভাসাতে পার শপিং মলে।  হে বর্ষার রাণী  কে দিয়েছিল নাম তব বৃষ্টি  নগরে তুমি বয়ে আন অনাসৃষ্টি।  তুমি কি জান  কত ক্ষতি হয় বিশ্বরোডে দাড়িয়ে থাকা ট্রাফিকের। কত লোকসান হয়  পৌর টোকেন দেয়া পাতি লেবুর। প্রতি প্রভাতে তারা সহিহ নিয়ত করে বের হয় আজকে আদায় দিয়ে তারা আলমারিটা ভরে যেত।  কবিদের কি কম কষ্ট হয়?  মোড়ের চায়ের পেয়ালাগুলো তার কবিতা শোনার জন্য বসে থাকে। অথচ কবির দেখা পায় না। বৃষ্টি তুমি শহরে একেবারে বেমানন। শহরে তোমার রিমঝিম শব্দের চেয়ে গাড়ি হইসেল এর আওয়াজকেই মধুর মনে হয়।

বিপাশা সরকারের কবিতা

 পাখির ডানা বাহিরে গজায় মানুষের গজায় ভেতরে  স্বপ্ন মূলত মানুষের ডানা  পাখির চেয়ে বেশি মানুষই ওড়ে

গল্পটা একজন নুরীর

 আগে মাঝে মাঝে সাত মাথা যেতাম।তখন সাতমাথা আমায় টানত না।আমি আড্ডা দিতাম কামারগাড়ি আমিনুল মামার চায়ের দোকানে; ভরসন্ধ্যা থেকে উনগভীর রাত অবধি।বেকারদের সাথে বেশি মিশতাম কারণ ওদের আর আমার দু:খ এক, যাতনা এক, মনের বয়স এক। ওদের পকেটে টাকা কম, আমার পকেটেও টাকা কম।বিড়ির আড্ডায় ধুয়া হয়ে যেতো টাকা। পকেটে ফুটা ছিলো টাকা আসতেই নাই হয়ে যেতো। এখন বিড়ি না খাওয়ায় দশ বিশ টাকা থাকে। তখন খালি পকেটে বেশি চলতাম। এক কাপ দুধচা কে সোনার হরিণ মনে হতো। কালে ভদ্রে কেউ খাওয়ালে খেতাম।সিগারেট মানে ব্যানসন ছিলো সবচেয়ে দরকারি জিনিস। দিনে ৭ খেতাম, অন্যকে দিয়ে গড়ে দশটা খাওয়া হতো।ফলে মানিব্যাগ ছিল গড়ের মাঠ।সে সময় সমবয়সী সবাই বাড়ি গাড়ি করা শুরু করছে।কেউ কেউ দ্বিতীয় নাম্বার বাড়ি করাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।আর আমি সিগারেটের টাকা জোগাড় করতে ব্যস্ত। এ জীবনে আমি দরকারী জিনিসের চেয়ে অদরকারী জিনিসকে গুরুত্ব দেই বেশি। এ কারণে বাড়ির চেয়ে  হুন্ডা বা বাইক আমার কাছে বেশি প্রয়োজন। মিলিয়ে মিলিয়ে সিম কেনা আর নতুন ফিচারে মোবাইল কেনা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমার মতো গরীব স্কুল মাস্টার বছরে দুবার মোবাইল পালটায়। বছর বছর পালটায় ব...

সেন্টু আমার বন্ধু

 সেন্টু আমার বন্ধু:(১) মুহসিন হলে থাকার সুবাধে ওর সাথে পরিচয়। জাতীয়তাবাদী আর্দশে জড়িয়ে গেলে সেটা আরো গাঢ় হয়। লিক লিকে লম্বা কৃষ্ণ বর্ণের ছেলে, প্রথমে দেখলে ভয় লাগে কিন্তু মিশলে বোঝা যায় মনটা ডাবের পানির মতো  স্বচ্ছ ও তরল।সেন্টু কিন্তু খেয়ালি ছেলে, যখন যে খেয়াল চাপত সেদিকে দারুণ ঝোক।মাঝ খানে ডাবাং টাইপের রাজনীতি করলো। আবার কয়েকদিন ভীষণ পড়ূয়া। যখন পড়ত বসত তখন ৪৪৮ নং রুমে গেলে বলত। সর তো, আমি এখন পড়তে বসব।আমার পড়ার ঝোক আসছে। পরক্ষণেই আবার বুকে জড়িয়ে ধরতো। কুষ্টিয়ার ছেলে সে হিসেবে ওর ভাষা দারুণ ছিলো একেবারে মিছরীর মতো ভাষা।মিষ্টি মিষ্টি হাসতো।পাইলট ভাই আর টুকু ভাইয়ের লোক ছিলাম আমরা। মিছিলের আগে যেতো আর শ্লোগান দিতো। ও মেহেদী আর পলাশ রাজনীতির মহাজন ছিলো।ধ্যানে জ্ঞানে মননে চিন্তায় রাজনীতি। ওর রুমে দুইটা বই আমি দেখেছি। একটা পি কে হিট্টি লেখা আরব জাতির ইতিহাস আর মাইতির লেখা ভারতবর্ষের ইতিহাস। সেই থেকে এই দুইট আজো প্রিয় আমার। মুনতাসির মামুন স্যারে ক্লাসের গল্প করতে সে। ওর কথার রসে জারিত হতাম আমি।ওর বন্ধু আমি হতে পারেনি কিন্তু খুব কাছের জন ই ছিলাম। বাস্তবিক ওর বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা আমার ...

তানিয়া নাসরিনের বিদায় বর্ষা ১৪৩২

 আজ বর্ষার শেষ দিন। স্মৃতিতে এবারের বরষা এক অন্যরকম অনুভূতি দিয়ে গেল। বর্ষা এবার তার প্রকৃত রুপ-রস-রঙ, আহ্লাদ-আবেদন- অভিমান, বিরহ-মিলন-প্রেম, পূর্ণতা-অপূর্ণতা-সহ আরো অনেক-অনেক জৌলুস সাথে নিয়ে এসেছিল। আর তার যৌবনের সকল শক্তি গোচর করে প্রকৃতিকে সজীব ও প্রাণবন্ত করে গেলো। বহুদিন পর বর্ষা যেন বর্ষার মত করেই এসেছিল। আমার প্রিয় ঋতু শরৎ। তবে শরতের সান্নিধ্য পেতে বর্ষাকে ছুয়ে আসতে হয় বলে কিঞ্চিৎ মুগ্ধতা ছিল। কিন্তু এবারের বর্ষা যেন সব ছাপিয়ে এক অন্যন্য ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে। কী পাইনি এই বর্ষায়? প্রিয় কদম ও বকুল, পাওয়া-না পাওয়া, রোদ-মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা দেখতে পাওয়া, প্রিয়জন ও বৃষ্টি একসাথে দেখা, বৃষ্টিবিলাস ও মগ্নতা,  দূরদেশ ঘুরে দেখা, চর, প্রকৃতি ও বৃষ্টি, নৌকাভ্রমণ ও বুনোফুলের সান্নিধ্য,  প্রিয়জন হতে বুনোফুল, রোদ ও দূর ভ্রমণ,  প্রিয় সহকর্মীদের সাথে ঘোরাঘুরি,  বৃষ্টি ছুয়ে প্রিয় বান্ধবীর সাথে শপিং,  নদী, প্রকৃতি, আমি ও প্রিয়জন, হঠাৎ উদাস মন, মন খারাপ ও শূন্যতা অনুভব,  উচ্ছ্বলতা ও প্রাণবন্ততা, নদীর জলে পায়ের স্পর্শ,  বৃষ্টি ও নদীর জল ছুয়ে দেখা, বৃক্ষমেল...

অনন্য রাসেলের গল্প

 পলাশ ফুল আর ময়না পাখি -অনন্য রাসেল। মোহাব্বত নগরে পলাশ ফুলের গাছ ছিলো।তার ডালে বাসা বেঁধে ছিলো ময়না পাখি। ময়নারা জোট বেঁধে কিচিত মিচির করে অস্থির করে তুলতো পথিককে। কেউ কেউ তাদের কিচির মিচির মুগ্ধ হয়ে শুনতো। কেউ কেউ দেখতো পলাশ ফুলের সৌন্দর্য।  যারা ফুলের ভক্ত ছিলো তারা বলতো এই ময়নার  কারণে পলাশের রুপ সৌন্দর্য কেউ দেখতে পারছে না। ময়নাকে তাড়াতে হবে।  কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ লোক ময়নাকে ভালোবাসে। ময়না তাদের মাতব্বরদের কন্ঠ নকল করে  শোনায়। মাতব্বরদের প্রিয় হয়ে ওঠে ময়নাজোট। এই ময়নার কারণে পলাশ ফুলকে কেউ পুঁজো করে না। একদিন একঝাক টিয়া পলাশের ডালে বসলে- পলাশ বলে তোরা আমার রায়ত হ আমার এখানে বাসা বাঁধ, আর খেলাধুলা কর। ভাই পলাশ আমরা সুন্দরী।  আমাদের নিরাপত্তা তুমি দিতে পারবে না। লোকে ধরে ধরে আমাদের ঘরে নিয়ে যাবে। ব্যাধ এসে বিক্রি করে দেবে আমাদের। ময়না আমাদের বন্ধু ওর সাথে দেখা করে আমরা চলে যাব আমাদের ভুবনে।  সুন্দরবনের সুধাসদনে। লোকালয়ে আমরা স্বাধীন না।কেবল কেবল গভীর গভীরতর জঙ্গলে আমরা হাসি খেলি, কথা কই। পলাশের স্বপ্ন ভেঙে যায়।  ময়নাদের সাথে তার ঝগড়া হয় না,সে...

অনন্য রাসেলের কবিতা

 একটি অসমাপ্ত কবিতা - অনন্য রাসেল  হৃদয় কাঁদার শব্দ কি শুনতে পাও? দেখতো শুধু চোখের জল। হৃদয় সমুদ্রের  ক ফোটা জল চোখ দিয়ে ঝরে  সবি ত হাসি হয়ে ওড়ে  তোমরা ভাবো সুখেই ঘোরে। লাটিম কি এমনি ঘোরে  দড়ি দিয়ে টান না দিলে। হ্রদয়ে টান লাগিলে দেহ পাখির মতো ওড়ে। বধুর কোলে পাইলে সুখ সে কি কখনো কেদে ভাসায় বুক। হ্রদয়ে যার জমে ব্যাথা সে খোঁজে বঁধুর কাথা। যার হাড়িতে কড়ি নাই তার পায়েতে দড়ি নাই। যে হারিয়েছে শরম তার আবার ঠান্ডা-গরম? যে খেয়েছে চোনা তার থাকে না দেনা। যে কথাগুলো না বলি  সেগুলো কবিতায় বলি। হৃদয় আমার তপ্তএকটি অসমাপ্ত কবিতা  যেন মধ্য গগনের সবিতা।

বই উপহার-অনন্য রাসেল

 পদাধিকারীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্নজন ফুল দেন। জন্মদিনেও ফুল দেন।  গ্রহণ করার পর ই তার কার্যকারিতা শেষ। ভাবুন  যদি বই উপহার দিতেন  তাহলে এক যুগ থেকে যেতো।  যদি বই প্রেমিক হতেন তবে আলমারিতে শোভা পেতো। টেবিলে সাজানো থাকত।  আর চিন্তাগুলো শির শির করে প্রবেশ করত মস্তিষ্কের ভেতর। নেতাকে দিলে হয়ত সে পড়ত না। অন্তত নামটা জানতো। বিভিন্ন বক্তব্যে নামটা বিক্রি করতেন। নয়তো পার্টি অফিসে রাখতেন। অবসরে কোন কর্মি পড়তো। ছেলে মেয়ে হয়ত পড়ত।  নিজে মুর্খ থাকলেও, সন্তানকে কেউ মুর্খ  রাখতে চায় না। শিক্ষককে দিলে তিনি হয়ত পড়তেন। যদি নাও পড়তেন কোন ছাত্র কিংবা কলিগকে দিতেন। তা না হলে পুরান লাইব্রেরিতে বেঁচে দিতেন। যেমন করে বিক্রি করেন সৌজন্য কপি। তাতেও লাভ  কমদামে কিনতে পারতো কোন গরীব পাঠক। অন্তত ফুলের মতো ডাস্টবিনে জায়গা হতো না। ফুলেরা মরে যায় দ্রুত কিন্তু বই ফুল হয়ে থাকে অবিরত।

পত্র গল্প

 চিঠি দিবস স্মরনে - অনন্য  রাসেল। পত্রগল্প: হাবিবে কাওসার বন্ধু কাওসার হাবীব কেমন আছিস বন্ধু? নিশ্চয়্ ভালো আছিস। তুই ভালো না থাকলে আর কে ভালো থাকতে পারে বল! তোর মতো ন্যায় নীতিবান আদর্শ সন্তান কে হতে পারে বল! আল্লাহর দুনিয়ায় তুই পরিপূর্ণ মানুষ ছিলি। ছিলি পাক্কা ইমানদার,বিনয়ী এবং কঠোর নামাযী।কুরআনের বানী তোর মুখস্ত ছিলো। তুই ছিলি কামিল ফাযিল পাশ করা মেধাবী ছাত্র। শাহজাহানপুরের আতাইল মাদ্রাসার সেরা ছাত্র ছিলি। প্রত্যন্ত একটা মাদ্রাসায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানে ভর্তি হওয়া কম কথা না। ও সময় আমি ধর্মের বিষয়ে উদাসীন ছিলাম আর তুই ছিলি পাক্কা হুজুর। তবুও তোর আর আমার বন্ধুত্বে ঘাটতি ছিলো না। তুই আমারে ডাকতিস - শ্যালা ভন্ড বলে।যদিও এটা বন্ধু মহলেই সীমাবদ্ধ থাকত। তোর দরাজ কন্ঠের তেলোয়াত আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছি। আহ! আজো কানে বাজে বন্ধু!  তোমার সেই দরদী আওয়াজ।  শেখ সাদীর বেলা গেলো উলা বে কামা লিহি--- তোর কন্ঠে পূর্নতা পেয়েছিলো।  আজ আমার মনে হচ্ছে তুই ছিলি শহীদুল্লাহ্ নব সংস্করণ। যে আরবি ফার্সির পাশাপাশি রবীন্দ্র সংগীত গাইতে পারত। তোর থেকে মাঝে মাঝেই টাকা ধার নিতাম...