গল্পটা একজন নুরীর
আগে মাঝে মাঝে সাত মাথা যেতাম।তখন সাতমাথা আমায় টানত না।আমি আড্ডা দিতাম কামারগাড়ি আমিনুল মামার চায়ের দোকানে; ভরসন্ধ্যা থেকে উনগভীর রাত অবধি।বেকারদের সাথে বেশি মিশতাম কারণ ওদের আর আমার দু:খ এক, যাতনা এক, মনের বয়স এক। ওদের পকেটে টাকা কম, আমার পকেটেও টাকা কম।বিড়ির আড্ডায় ধুয়া হয়ে যেতো টাকা। পকেটে ফুটা ছিলো টাকা আসতেই নাই হয়ে যেতো। এখন বিড়ি না খাওয়ায় দশ বিশ টাকা থাকে। তখন খালি পকেটে বেশি চলতাম। এক কাপ দুধচা কে সোনার হরিণ মনে হতো। কালে ভদ্রে কেউ খাওয়ালে খেতাম।সিগারেট মানে ব্যানসন ছিলো সবচেয়ে দরকারি জিনিস। দিনে ৭ খেতাম, অন্যকে দিয়ে গড়ে দশটা খাওয়া হতো।ফলে মানিব্যাগ ছিল গড়ের মাঠ।সে সময় সমবয়সী সবাই বাড়ি গাড়ি করা শুরু করছে।কেউ কেউ দ্বিতীয় নাম্বার বাড়ি করাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।আর আমি সিগারেটের টাকা জোগাড় করতে ব্যস্ত। এ জীবনে আমি দরকারী জিনিসের চেয়ে অদরকারী জিনিসকে গুরুত্ব দেই বেশি। এ কারণে বাড়ির চেয়ে হুন্ডা বা বাইক আমার কাছে বেশি প্রয়োজন।
মিলিয়ে মিলিয়ে সিম কেনা আর নতুন ফিচারে মোবাইল কেনা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমার মতো গরীব স্কুল মাস্টার বছরে দুবার মোবাইল পালটায়। বছর বছর পালটায় বাইক। রিচ ম্যান আর আড়ং ছাড়া কোন পোশাক সচরাচর পরে না। ভালো রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে না,ফলমুল খায় না,কিন্তু বাসায় এসি চালায়। ভাবেন তো তার কীভাবে জীবনে জমি হবে কিংবা বাড়ী?
হয়ত এ জগতে আমার স্বভাব দোষে আমি গরীব থেকে যাব। পোলাপাইনদের জন্য ঋণ ছাড়া রেখে যাওয়া সম্ভব না। তবে একটা জিনিস রেখে যাব তা হলো এক লাখ খানেক বই।একটা আমার ইচ্ছে। এক লাখ বই জমা হয়ে থাকবে আমার বাড়িতে। বইগুলো পোকা কুট কুট করে খাবে মাটির তল থেকে তা শুনতে আমার দারুণ লাগবে।যখন বইয়ের পাতা উল্টাবে তখন পাতার মড়মড় শব্দ আমি শুনতে পাব হৃদ স্পন্দনের মতো।
হাজার দশেক বই পড়া আমার টার্গেট আর রিভিউ কিংবা কন্টেন্ট তৈরি করা ইচ্ছা আছে হাজার খানেক।
শ পাচেক বই লেখার ইচ্ছে আছে যদি নিয়তি আমায় শক্তি কিংবা সময় দেয়। তবে এটা সত্য আমার ইচ্ছে কিংবা প্রার্থনা কোনকালে কবুল হয় না। হয় বরং এর উল্টো।
তাই ইচ্ছে করে আল্লাহর কাছে চাই না।চাইতে ভয় করে।যদি উল্টো হয়। বিধি আমার কাছ সব সময় বাম।
এ জীবনে আমার কোন দর্শন নেই।নেই কোন চেতনা।নেই কোন মান কিংবা সম্মান। আমি অর্থ আর আইন ছাড়া কোন কিছুকে গুরুত্ব দেই না। কিন্তু অর্থের জন্য পাগল নই আমি।
আমি অর্থ প্রেমিক কিন্তু লোভী না।আমি সেই প্রেমিকের মতো যে সারাদিন প্রেমিকাকে নিয়ে ঘোরে কিন্তু চুমু দেয় না। লিখতে পড়তে ভালো লাগে লিখি,পড়ি, বই কিনতে ভালো লাগে বই কিনি,ঘুরতে ভালো লাগে ঘুরি।ফেসবুক চালাতে ভালো লাগে চালাই।ভিডিও করতে ভালো লাগে করি, কোন কিছুর প্রতি আসক্ত নই আমি।মন শরতের মেঘের মতো ভেসে বেড়ায়।আকাশে আনাত বন্ধন আছে কিন্তু প্যারা নাই।আমি প্যারালাল জীবন পছন্দ করি না। কিন্তু যারা একটা লক্ষ্য স্থির করে চলে তাদের প্রনাম করি।ক্ষমতাবানকে শ্রদ্ধা করি। রাজনীতির প্রতি প্রেম জীবন প্রেমের চেয়েও বেশি।রাজনীতি থেকে দেশকে দেয়ার ইচ্ছে যারা করে তাদের সন্দেহ হয়, ক্ষমতা যারা পায় তারা তো মানুষ থাকে না নেতা হয়ে যায়।নেতা অর্থ বিত্তবান।
বিত্তবান হতে পছন্দ করে না তাকে ভালো লাগে না। সে হিসেবে নুরীকে নিয়ে লেখার কোন দরকার ছিলো না।কিন্তু লেখা সবসময় নৈব্যাক্তিক তাই নুরীকে নিয়ে এ আমার লেখা। নুরী আমার প্রাচীন সেকেলে বন্ধু। কলকাতা আর্ট ফল্মের মতো নয়,নয় চারুকলার মতো, আধাত্মিক স্পর্শহীন বন্ধু আমার। সে রাজনীতি করে বিত্তবান হতে চায় না।রাজনীতি তার এক ধরনের ব্রত। কিভাবেভেই ব্রতচারিণীর সাথে সখ্যতা হলো বৃত্তান্ত নয় এটা, আবার বৃত্তান্তহীন নয়।
তবে হতে গাল্পিক ----
Comments
Post a Comment