সেন্টু আমার বন্ধু

 সেন্টু আমার বন্ধু:(১)

মুহসিন হলে থাকার সুবাধে ওর সাথে পরিচয়। জাতীয়তাবাদী আর্দশে জড়িয়ে গেলে সেটা আরো গাঢ় হয়।

লিক লিকে লম্বা কৃষ্ণ বর্ণের ছেলে, প্রথমে দেখলে ভয় লাগে কিন্তু মিশলে বোঝা যায় মনটা ডাবের পানির মতো  স্বচ্ছ ও তরল।সেন্টু কিন্তু খেয়ালি ছেলে, যখন যে খেয়াল চাপত সেদিকে দারুণ ঝোক।মাঝ খানে ডাবাং টাইপের রাজনীতি করলো। আবার কয়েকদিন ভীষণ পড়ূয়া।

যখন পড়ত বসত তখন ৪৪৮ নং রুমে গেলে বলত।

সর তো, আমি এখন পড়তে বসব।আমার পড়ার ঝোক আসছে।


পরক্ষণেই আবার বুকে জড়িয়ে ধরতো।

কুষ্টিয়ার ছেলে সে হিসেবে ওর ভাষা দারুণ ছিলো

একেবারে মিছরীর মতো ভাষা।মিষ্টি মিষ্টি হাসতো।পাইলট ভাই আর টুকু ভাইয়ের লোক ছিলাম আমরা।

মিছিলের আগে যেতো আর শ্লোগান দিতো। ও মেহেদী আর পলাশ রাজনীতির মহাজন ছিলো।ধ্যানে জ্ঞানে মননে চিন্তায় রাজনীতি। ওর রুমে দুইটা বই আমি দেখেছি।

একটা পি কে হিট্টি লেখা আরব জাতির ইতিহাস আর মাইতির লেখা ভারতবর্ষের ইতিহাস। সেই থেকে এই দুইট আজো প্রিয় আমার। মুনতাসির মামুন স্যারে ক্লাসের গল্প করতে সে। ওর কথার রসে জারিত হতাম আমি।ওর বন্ধু আমি হতে পারেনি কিন্তু খুব কাছের জন ই ছিলাম। বাস্তবিক ওর বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা আমার ছিলো না,আজো নেই। ওর বন্ধু হতে যারা পেরেছিলো তারা কখনো সেন্টুকে ভুলতে পারবে না। কীভাবে পারে?

সেন্টু ছিলো আমাদের বাতাস। বাতাসকে কেউ কি ভুলতে পারে। শহীদ ওর বন্ধু হতে পেরেছিলো।সান্টু ছিলো ওর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সান্টুর লম্বা চুল ছিলো আর ছিলো গিটার। সান্টু গিটার নিয়ে আসলে হলের দোতলায় মাঝে মাঝে গভীর রাত্রে গিটার বাজাত আর গান গাইতো। সেন্টুর গানের গলা ছিলো। এদের সাথে যোগ হতো সরদার হিরক রাজা। সংগীতের হিরক রাজা। হিরক সংগীতে পড়তো।তবে বেশি আড্ডা দিতো কলাভবনের সবুজ চত্বরে।আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ছিলো সেন্টুরা।বিশ্ববিদ্যালয় লাইফ ওরা পেয়েছিলো, উপভোগ করেছিল হৃদয় দিয়ে। এ জীবনে কোন কিছু উজার করে পাওয়া হয়নি।সেন্টু পেয়েছিলো। উজার করে ভরে তুলেছে জীবন। এমন আড্ডাবাজ ছেলে আজও আমার চোখে পড়েনি।

মুহসিন হলের সবচেয়ে আড্ডাবাজ ছেলে ছিলো।

সারাক্ষণ ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াত।

ওকে বেশি দেখতাম কলভবনের সিঁড়িতে বসে থাকতে।

সান্টু রাসেল মিথিলা শামীমা শহীদ আর পাপড়ি ফিরোজ ওরা এক ঝাক বলাকা।উড়ে উড়ে বেড়াত ক্যাম্পাসের আঙ্গিনায়।আমরা ওদের আড্ডা দেখতাম আর হাসির ঝর্ণাধারা উপভোগ করলাম। টি এস সি তে ওরা, লাইব্রেরির সামনে ওরা।

মধুর ক্যান্টিনের জমায়েতে সেন্টু।

মাহফুজ ভাইয়ের লেওটা ছিলো সেন্টু।


সেন্টু নিজেকে উজার করে দিয়ে মিশতে পারত। সবাই ওর ভক্ত হয়ে যেতো। একবার যে সেন্টুর সাথে মিশেছে, সে সেন্টুর গুন মুগ্ধ না হয়ে পারে নি।


একবার কী যে হলো ----

ও ৩৪৬ নং রুমে চলে আসলো।রুমমেট ছিলো বাংলার মামুন।

সেন্টু ভীষণ বিড়ি প্রিয় ছিলো।

আঙুলে সব সময় বিড়ি থাকলে থাকলে খুশি হতো।

গোল্ড লিফ তার ভীষণ প্রিয় ছিলো।গোল্ড লিফের প্যাকেটে ভরিয়ে তুলেছিলো বুক সেলফ। প্রায় হাজার খানেক খালি প্যাকেট ছিলো।

এই প্যাকেট জমানো আমাকে মুগ্ধ করে।আমিও চেষ্টা করছি কিন্তু পারিনি। সেন্টুকে ঘিরে আছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সব স্মৃতি।

এমন ভবঘুরে, উদাসিন কিন্ত জাতীয়তাবাদী আর্দশে বিশ্বাসী  এবং একটু মুখচোরা ছেলের জীবনেও বৈশাখী ঝড় এলো---


(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

পত্র গল্প

বই উপহার-অনন্য রাসেল

ডাকসু নির্বাচন ও চ্যাট জিপিটি-অনন্য রাসেল