ডাকসু নির্বাচন ও চ্যাট জিপিটি-অনন্য রাসেল
চ্যাট জিপিটি ও ডাকসু নির্বাচন (রম্য গল্প)
আমার ছেলেটা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইলো
আমি খুব আবাক হলাম।
কিছুতেই নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারলাম না।
দেশে কী মেধাবীর আকাল পড়ছে?
হারিছের মতো আড্ডাবাজ,মাথামোটা চান্স পায় কিভাবে?
পত্রিকায় ঘাটলাম পরীক্ষায় কোন অনিয়ম হয়েছি কিনা- এমন সংবাদ আছে কি না।
পেপার ঘাটলাম এই জন্য যে ওর মা হয়ত আমার অজান্তে অন্য পথে হেঁটতে পারে।
না নেই।
তাহলে ও নিয়মেই চান্স পাইছে।
ও যখন এ প্লাস পেলো তখন অবাক হইনি।
ওর মা খুব খুশি হয়েছিলো
ওর মা খুব টেনশনে ছিলো। ছেলে যদি প্লাস না পায়।
মহিলা মানুষের টেনশন। বুঝেন তো তারা তেলাপোকার জন্য টেনশন করে কিন্তু ইদুরের জন্য করে না।
ভূতপূর্ব শিক্ষক হিসেবে আমি জানি নিতান্ত গুরু ছাগল না হলে, সবাই এ প্লাস পায়।
সুতরাং আমার ছেলে যে গরু না, এটা মানতেই হবে।
তবে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপযুক্ত না, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর ঘাস জন্মায়।
বড়জোর সরকারি কলেজে পড়ার যোগ্য। সরকারি কলেজে ওর মতো অনেক ষাঁড় আছে।
তবে আট দশজন বাবার মতো কোচিং করিয়েছি। পাঁচটা মোটা অঙ্কের শিক্ষক রেখে প্রাইভেট পড়িয়েছি। সাধারণত দুর্নীতির টাকা শিক্ষার পেছনে ব্যয় করি। শিক্ষকদের একটু অধিকার আছে হারাম উপার্জনে।
গড় গড় করে পড়তো সে।
মুখস্ত বিদ্যা ভালো ছিলো। ওর প্রাইভেট স্যার বলত! হারিছে মেধা আছে কেবল যত্নের অভাব।এটা শিক্ষকদের মুখস্ত বুলি। হারিছ পারতো না কোন গভীর চিন্তা করতে,বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা একেবারেই নেই।কিন্তু প্রযুক্তিগত জ্ঞান অসাধারণ। যেকোন ধরনের কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে করে।
ইদানীং নোট তো চ্যাট জিপি টি দিয়া করে।
পাস করেও যাচ্ছে।
আইপ্যড কিনে দেয়ার পর আর কোন বই কেনে নি।
প্যাডই সব।
ও কোন সমস্যায় পড়লে প্রযুক্তির সাহায্য নেয়।
একদিন মেয়ে বললো বাবা জান আমাদের দাদা আবার ফিরে এসেছে।
বললাম তা কী করে সম্ভব। তারা তো মারা গেছে।
দেখো তোমাকে দেখাচ্ছি
একটা এপস্কে সে বললো আমাকে দাদীর মতো রুপ কথার গল্প শোনাও।
সে অবিকল আমার মায়ের মতো গল্প শোনালো।
তুমি যখন বাসায় না থাক সে তোমার মতো আমার সাথে গল্প করে।
নিজের টেবিলে বসে ভাবছি -এ জেনারেশনের কথা।
এরা মাথাকে কাজে লাগাতেই চায় না।সব কিছুতেই প্রযুক্তি।
হয়ত হারিছ এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
পেপারে পড়েছিলাম জাপানি ছেলে মেয়েরা আর বিয়ে করতে চাচ্ছে না।
প্রযুক্তি তাদের মানসিক জগৎ খেয়ে নিচ্ছে।
গতকাল বললাম হারিস তোমার ফোনটা দাও তো।
সে ফোন দিয়ে ভিতরে গেলো
আমি চ্যাট জিপিটি ওপেন করলাম
দেখি সে চ্যাট জিপিটি কে জিজ্ঞেস করছে -
ডাকসু নির্বাচনে কাকে ভোট দেয়া যায়।
চ্যাট জিপিটি যা উত্তর করছে।
তার ফলাফল পরেরে দিন পত্রিকায় দেখলাম।
মনে পড়ে গেলো ছোটবেলার কথা --
ফুলজোর নদীতে গোসল করছি। সমানে সমানে ডুব দিচ্ছি।
পাশে নুরা চাচা বলছে--
বাবা এখন খালি ডুব দিলে হবে না, গাঁয়ে সাবানও মাখতে হবে।

Comments
Post a Comment